ক্ষমতা আর অর্থ পেলে কতই না বিলাসি হতে চাই আমরা। মধ্যপ্রাচ্যে ছাড়াও আমার গরিব বাঙলাদেশেও বিলাসি মানুষের অভাব নেই, প্রতি বছর কত বিলা্সেই অর্থ খরচ করি আমরা। কিন্তু ক্ষমতাধর হয়েও মেঠো্পথ ধরে হাঁটেন যিনি তার নাম জোসে মুজিকা। দেখুন মেঠো পথের ধারে সাধারণ পোশাকে এক বয়োবৃদ্ধ ভদ্রলোক। এ ভদ্রলোক কে হতে পারেন, সে সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা আছে? মফস্বলের ছোট ব্যবসায়ী কিংবা সাধারণ কোনো চাকরিজীবী, এমনটাই হয়তো ভাবছেন আপনি। কিন্তু জেনে অবাক হবেন, এই ভদ্রলোক লাতিন আমেরিকার দেশ উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট জোসে মুজিকা। এ মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র প্রেসিডেন্ট তিনি।
এই মানবতাবাদী রাষ্ট্রপ্রধান জীবনে যা আয় করেছেন আক্ষরিক অর্থে তার সবটাই তিনি দান করেছেন দেশের দুস্থ মানুষের কল্যাণের জন্যে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা যেখানে নিজের সম্পদ গোছানোয় ব্যস্ত, সেখানে মুজিকার সম্পদ বলতে আছে শুধু একটি গাড়ি। আমাদের দেশের একজন সাধারণ সংসদ সদস্যের যেখানে কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি থাকে, সেখানে উরুগুয়ের এই প্রেসিডেন্ট চলাচল করেন ১৯৮৭ সালের ভিডবি্লউ বিটেল মডেলের একটু পুরণো গাড়িতে। এ ধরনের গাড়ি আজ থেকে ৩০ বছর আগে আমাদের দেশ থেকে উঠে গেছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বাড়তি খরচ হবে বলে প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত সরকারি বাড়ি বা গাড়ি, কোনোটাই ব্যবহার করেন না মুজিকা। রাজধানী মন্টিভিডিওর পাশে স্ত্রীর মালিকানাধীর ছোট্ট বাড়িতে থাকেন তিনি। সেখান থেকে প্রতিদিন অফিসে আসেন।
এক শীত ঋতুতে তাপমাত্রা ব্যাপক কমার আশঙ্কা দেখা দিলে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টারা তাকে প্রেসিডেন্টশিয়াল প্যালেস 'সুয়ারেজ ওয়াই রেয়েসে' ওঠার পরামর্শ দেন। কিন্তু সেটাও প্রেসিডেন্ট প্রত্যাখ্যান করেন। অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানদের মতো নিরাপত্তারক্ষী পরিবেষ্টিত হয়ে চলাফেরা করেন না মুজিকা। আর দশজন সাধারণ নাগরিকের মতো রাস্তায় বের হন। ট্রাফিক সিগন্যাল পড়লে থেমে যান। অপেক্ষা করেন সবুজ বাতি জ্বলার। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জোসে মুজিকা প্রতি মাসে বেতন পান ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা (১২ হাজার ৫০০ ডলার)। সেখান থেকে মাত্র ১ লাখ টাকার মতো (১ হাজার ২৫০ ডলার) রেখে, বাকি টাকাটা দুস্থদের মধ্যে বিলিয়ে দেন তিনি।
এ ব্যাপারে এক স্প্যানিশ টিভি চ্যানেলে প্রশ্ন করা হলে মুজিকা বলেন, 'এই টাকায় বেশ ভালো আছি। আসলে আমাকে এর মধ্যেই ভালো থাকতে হয়। কারণ অসংখ্য উরুগুইয়ান আমার চেয়ে খারাপ অবস্থায় আমার আশপাশেই বাস করে।' অনেকেই ভাবতে পারেন, মাসে ১ লাখ টাকায় প্রেসিডেন্টের ভালোভাবেই চলে যাওয়ার কথা। তাদের জন্য বলছি, উরুগুয়েতে সাধারণ খরচ আমাদের দেশের তুলনায় অনেক বেশি। যেখানে ১ কেজি সাধারণ চাল ১৪০ টাকা, এক ডজন ডিম ১৮০ টাকা, ১ কেজি মুরগি ৬৩৩ টাকা, ১ মিনিট লোকাল মোবাইল কল খরচ ২৬ টাকা, ১ লিটার পেট্রল ১৪৪ টাকা, ১ মাসের ফিটনেস ক্লাবের খরচ ৪ হাজার টাকা, তিন বেডরুমের একটি সাধারণ ফ্ল্যাটের ভাড়া ৭৭ হাজার টাকা_ সেখানে ১ লাখ টাকায় মাস পার করা কঠিন ব্যাপার। আর এমনটা যদি ঘটে একজন প্রেসিডেন্টের জীবনে, তাহলে তার জন্য ব্যাপারটা শুধু কঠিনই নয়, অনেকটা দুঃসাধ্যও বটে।
অনেক বছর এক সঙ্গে থাকার পর (লিভ টুগেদার) ২০০৫ সালে প্রেসিডেন্ট মুজিকা লুসিয়া তপোলান্সকি নামে একজন রাজনীতিবিদকে বিয়ে করেন। স্বামীর মতাদর্শের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন লুসিয়া। উরুগুয়ের সিনেটর হওয়ার পরও সংসার চালানোর জন্য তাকে নিজের ছোট্ট খামারে ফুলের চাষ করতে হয়। প্রেসিডেন্ট নিজেও চাষের ব্যাপারে তাকে সাহায্য করেন। 'গাছে সার দেওয়া, ক্ষেত নিড়ানো থেকে শুরু করে ফুল তোলা_ সব কাজেই মুজিকা সমান পারদর্শী' জানিয়েছেন লুসিয়া। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এই দম্পত্তির কোনো ছেলেমেয়ে নেই। মুজিকা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করেন না। ১৯৩৫ সালের ২০ মে এক সাধারণ পরিবারে মুজিকা জন্মগ্রহণ করেন। ষাটের দশকের শুরুর দিকে 'টুপামারোস আরবান বিবেল মুভমেন্ট' নামের এক সদ্য প্রতিষ্ঠিত সশস্ত্র গেরিলা দলে যোগদান করেন তিনি। এ দলটি কিউবান বিপ্লবে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজ দেশে তেমনই কিছু করার জন্য উঠেপড়ে লাগে। ফলে সামরিক জান্তা সরকারের রোষানলে পড়ে ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত জেলে বন্দি ছিলেন মুজিকা। ১৯৮৫ সালে উরুগুয়ে থেকে সামরিক শাসন উচ্ছেদ এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর জেল থেকে ছাড়া পান তিনি। নিজ দেশে এই বামপন্থী গেরিলা নেতা খুবই জনপ্রিয়। সেখানে সবাই তাকে 'পেপে' নামে ডাকে। ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লাকালেকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। ২০১০ সালের ১ মার্চ থেকে উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। এর আগে ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত উরুগুয়ের কৃষি, মৎস্য ও পশুসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র প্রেসিডেন্ট। সাদামাঠা জীবনযাপনের জন্য প্রশংসিত তিনি।
বিলাসবহুল বাসভবনে থাকেন না। থাকেন জীর্ণ খামারবাড়িতে। আবার খামার বাড়িটিও নিজের নয়। স্ত্রীর মালিকানা সূত্রে পাওয়া। এমন গরীবি হালতে থাকতে তিনি পছন্দ করেন। জীবনটা উৎসর্গ করে দিয়েছেন মানুষের জন্যে। গরীবি হালতে দিনাতিপাতকারী তিনি আর কেউ নন, লাতিন আমেরিকার দেশ উরুগুয়ের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জোসে মুজিকা। স্ত্রীর থেকে পাওয়া সম্পদ যুক্ত হয়ে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ২ লাখ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। এখনো তাঁর সম্পদের পরিমাণ নিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডানিলো অ্যাসটোরির সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ ও আগের প্রেসিডেন্ট তাবারে ভাস্কুইজের সম্পদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। ২০১০ সালে নিজের আয়কর বিবরণীতে তিনি বার্ষিক আয় দেখান মাত্র ১৮শ’ ডলার। জোসে মুজিকা জানান, আমাকে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র প্রেসিডেন্ট বলা হয়। কিন্তু আমি নিজেকে দরিদ্র মনে করি না। যারা বিলাসবহুল জীবনযাপন করে, যাদের চাহিদার কোনো শেষ নেই- মূলত তারাই দরিদ্র।
জোসে মুজিকা ২০০৯ সালে উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি বামপন্থী সাবেক গেরিলা। ষাট ও সত্তুর দশকে কিউবার বিপ্লবে অনুপ্রাণিত গেরিলা দলের নেতা হিসেবে উরুগুয়ের বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হন ছয়বার। শেষতক সরকারি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে উরুগুয়ের স্বৈরশাসনামলে ৭৩ থেকে ৮৫ পর্যন্ত একটানা ১৪ বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। এরপর গণতন্ত্র ফিরে আসলে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারায় ফিরে আসেন জোসে মুজিকা। রাজনীতির বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেও অতীতের গন্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন নি। বিলাসবহুল প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে থাকার বদলে জোসে বেছে নিয়েছেন নেহায়েত সাধারণ জীবন। এখনো কর্দমাক্ত পথ পাড়ি দিয়ে খামার বাড়িতে পৌঁছাতে হয় তাঁকে। পাহারাদার মাত্র তিন জন, দু’জন পুলিশ সদস্য, আর অন্যটি তিন পাওয়ালা খোড়া কুকুর। খামারে স্ত্রীর সাথে মিলেমিশে কৃষিকাজ করেন। কৃষিকাজের মধ্যে ফুলচাষ করেন বেশি। প্রেসিডেন্টের গরীবি সুরত দেখে মনে হতে পারে লাতিন আমেরিকার দেশটি খুবই হতদরিদ্র। সেটা কিন্তু মোটেও নয়। সুয়ারেস ই রিইয়েস নামে বিলাসবহুল প্রাসাদ রয়েছে প্রেসিডেন্টের জন্যে। সেবা প্রদানের জন্য ৪২ জন কর্মীও রয়েছে প্রাসাদে। কিন্তু সেখানে থাকেন না। খামারবাড়িতে স্ত্রী সিনেটর লুসিয়া তোপোলানস্কিকে নিয়ে থাকেন। বাড়ি সংলগ্ন এক খণ্ড চন্দ্রমল্লিকার চাষ করেন এই দম্পতি, স্থানীয় বাজারে আবার বিক্রিও করেন।
২০১০ সালে ক্ষমতা লাভের পরপরই মারিজুয়ালা ও সমলিঙ্গের বিয়েতে বৈধতা দিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। গর্ভপাত আইন করেও উরুগুয়েকে এই অঞ্চলের আলোচিত দেশে পরিণত করেন তিনি। বায়ু থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসের ব্যবহার বৃদ্ধি করে অর্থনীতির চাকাকে সচল করেন কিউবার বিপ্লবে অনুপ্রাণি সাবেক এই গেরিলা। মুজিকার এই দরিদ্র জীবন যাপন অনেকের কাছে খটকা লাগতে পারে। তাঁর মতে, অর্থ-বৈভব প্রাচুর্য থাকলেই মানুষের চাহিদার অবসান ঘটে না। রোমান দার্শনিক সেলেসার উদ্ধৃতি দিয়ে মুজিকা বলেন, যার কম আছে সে গরীব নয়, যে যত চায় সেই গরীব।
১৯৩৫ সালের ২০ মে জোসে মুজিকা জন্মগ্রহণ করেন। যৌবনে ন্যাশনাল পার্টির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাঁর মা ইতালিয়ান খুবই গরীব, আর বাবা ছিলেন ছোট্ট কৃষক। মুজিকার বয়স যখন পাঁচ, তখন তাঁর বাবা মারা যান। বিভিন্ন সাইক্লিং ক্লাবে জড়িত ছিলেন। এরপর মুজিকা বনে যান তুপামারোসের নেতা। ১৯৬০ এর দশকে গঠিত তুপামারোস গেরিলা গোষ্ঠীতে যোগ দেন। রাজধানী মাল্টিভিডিওতে ব্যাংক ডাকাতি, অপহরণ ও সহিংসতার জন্য পরিচিত হয়ে ওঠে তুপামারোস। মুজিকা জানান, হত্যা-খুন না করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতাম। ১৯৬৯ সালে মাল্টিভিডিওর একটি শহরও দখলে নেয় তুপামারোস। সরকারি বাহিনী তুপামারোসের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলে হার মানতে বাধ্য হয় মুজিকাদের। ১৯৭২ সালে সরকারি বাহিনী মুজিকাকে পাকড়াও করে। চৌদ্দ বছর কাটাতে হয় কারান্তরালে। প্রায় সময় রাখা হতো কারাগারের মাটির নিচের কক্ষে। বন্দিদশায় এমনও হয়েছে গোসল ছাড়াই থাকতে হয়েছে এক বছরের বেশি। কুনো ব্যাঙ, আরশোলা, ইঁদুর, টিকটিকি বন্দিশালায় ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। সঙ্গীদের সাথে শুকনো রুটি ভাগ করে খেতেন। ১৯৮৫ সালে স্বৈরসরকারের পতন হলে মুজিকা বাইরের আলো-বাতাসের মুখ দেখেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বছরখানেক পর অন্যান্য বামপন্থী দলগুলোর সাথে যুক্ত হয়ে মুজিকা ও তাঁর তুপামারোস মুভমেন্ট অব পপুলার পার্টিসিপেশন (এমপিপি) নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ১৯৯৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে মুজিকা ডেপুটি এবং ১৯৯৯ সালে সিনেটর নির্বাচিত হন। ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বের কারণে এমপিপির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ২০০৪ সালে ব্রড ফ্রন্টের সবচেয়ে বড় শাখা হয়ে ওঠে এমপিপি। ঐ বছরের নির্বাচনে আবারো সিনেটর নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে প্রেসিডেন্টতাবারে ভাসকেস তাঁকে মৎস্য, গবাদিপশু, কৃষি বিষয়ক মন্ত্রী নিযুক্ত করেন। ২০০৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিপক্ষ লুইস আলবার্তো লাকালেকে পরাজিত করেন মুজিকা। তাঁর খামার বাড়িকে উপহাস করে লাকালে ‘গুহা’ বলেছিলেন। মুজিকা মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ও আমজনতার মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না। প্রেসিডেন্ট মানে শান-শওকাত বিশেষ দেহরক্ষী বেষ্টিত। সে উন্নত ও উন্নয়নশীল সব দেশেই রয়েছে। এমনকি আফ্রিকার সবচেয়ে গরীব দেশ মালি, মালাবি, মধ্য আফ্রিকার প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো প্রভৃতি দেশের প্রেসিডেন্টের বেলায়ও। লাতিন আমেরিকায় যেখানে অপরাধ ক্রমাগতভাবে বেড়ে চলেছে সেখানে উরুগুয়েকে নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন মুজিকা।
কারা কারা এ ভোগবাদি বাঙলাদেশে মুজিকা হতে চান? যারা মুজিব হতে পারেননি, তারা অন্তত একবার মুজিকা হয়ে দেখান এ অভাব আর কাঙালবহুল দেশে। তাহলে স্বপ্নের প্রজাপতিরা উড়বে এপার বাঙলায় আর ওপার বাঙলা তথা পৃথিবীর সর্বত্র।
লেখাটি ফেসবুকে দেখতে চাইলে নিচের লিংকে যান প্লিজ

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন