অর্থনৈতিক সমস্যা-আক্রান্ত বাংলাদেশিদের ‘হিমালয় বিজয়’কতটুকু যুক্তিযুক্ত ?
মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয় নিয়ে দেশে বিদেশ বিতর্ক !
:
বিগত বছর বাংলাদেশের হিমালয়জয়ী মৃত খালেদ সজলের লাশ সরকারি খরচে দেশে আনার জন্য তার আত্মীয়স্বজনরা সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন। খবরে প্রকাশ, ২৮০০০ ফুট থেকে লাশ উদ্ধার ও দেশে আনতে কমপক্ষে ৬০-৭০ লাখ টাকা খরচের প্রয়োজন। কিন্তু নেপালের বাংলাদেশ Embassy চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি লাশ উদ্ধারে। এ প্রসঙ্গে হিমালয় বিজয়ী ৪+১ বাংলাদেশিদের প্রতি ‘যথাযথ সম্মান’বজায় রেখে বলতে চাইছি, হিলারী-তিনজিং-এর সাহসী এভারেস্ট বিজয় এখন আর নেই। এখন নেপালের শেরপাদের সহযোগিতায় এ ‘বাণিজ্যিক কর্মসূচিতে’ বিশ্বের ল্যাংড়া-লুলা, অন্ধ-খোঁড়া, শিশু-বৃদ্ধ অনেকেই তথাকথিত ‘হিমালয় বিজয়’করছেন প্রায় প্রতিদিন তথা প্রতিনিয়ত।
:
অনেকে হেলিকপ্টারে হিমালয়ের বিশেষ স্থানে নেমে শুরু করেন আনন্দের এভারেস্ট বিজয়! সপ্তপদী সমস্যায় আক্রান্ত [যেখানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত ঔষধ নেই, সাভার ট্রাজেডির অনেককে কৃত্রিম হাত-পা’র ব্যবস্থা করা জরুরী, বস্তিতে মানুষ বসবাসের মানবিক পরিবেশ নেই এদেশে ইত্যাদি] বাংলাদেশিদের জন্য এ ‘সখের হিমালয় বিজয়’ কতটা যুক্তিযুক্ত তা চিন্তার বিষয় এবং যখন মৃত বিজয়ীকে আনতে সরকারের আর্থিক সহযোগিতা চান স্বজনরা। সুতরাং ‘ফিউচার এভারেস্ট বিজয়ী’দের অনুরোধ করবো, অপচয়মূলক এ কাজ বাদ দিয়ে, দেশের অনেক মৌলিক সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসুন, মানুষ খুশি হবে।
:
[ উদাহরণ : রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আপনারা এ শক্তি ব্যবহার করতে পারতেন, এখনও আহতদের পুনর্বাসনে এগিয়ে আসতে পারেন]। তা ছাড়া এখন বিশ্ব মিডিয়ায় বাংলাদেশি এভারেস্ট বিজয়ীদের বিজয়কে ভুয়া বলেও খবর প্রচারিত হয়েছে, যা দেখানো হয়েছে একাত্তর টিভিতে। তা ছাড়া টাকা খরচ করলে নাকি বিদেশি “রেডিমেড পিএইচডি”র মত তিব্বত বা নেপালের বিশেষ অঞ্চল দিয়ে “তথাকথিত এভারেস্ট বিজয়ের সার্টিফিকেট” ও ছবি নাকি সহজলভ্য বর্তমান বাণিজ্যিক এভারেস্ট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাছে।
:
এদিকে খবরে প্রকাশ বাংলাদেশের মুসা ইব্রাহীম নাকি এভারেস্ট জয় করেননি! এই বিতর্ক শুরু হয়েছে দেশের ও বিদেশের গণমাধ্যমগুলোতে। এদেশের সন্তান হিসেবে ‘প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী’মুসা ইব্রাহীমকে নিয়ে ক’দিন আগেও যে আনন্দ-উল্লাস হয়েছে, তাতে এক প্রকার জল ঢেলে দিয়েছে এই অবাক করা খবর। মুসা ইব্রাহীমকে নিয়ে আনন্দে আত্মহারা জাতি এখন সত্যি সত্যিই অনেকটা বিরক্ত! গত বছর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সংবাদে উঠে এসেছে মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয়ের বিতর্কটি। সেখানে বলা হয়, এভারেস্ট জয়ীদের নিয়ে নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয় ও নেপাল মাউন্টেনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশনা ‘নেপাল পর্বত’-এ নাম নেই মুসা ইব্রাহীমের। নেপাল মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জিম্বা জাংবু শেরপা ওই টেলিভিশনকে বলেন, ‘এভারেস্ট জয় করা নিয়ে মুসা যে ছবিটি দেখিয়েছেন সেটি চূড়ার নয়। এটি সাত হাজার ফুট ওঠার পর তোলা ছবি।’এভারেস্ট জয়ী আরেকজন থেম্বু শেরপাও এ ছবিটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এমনকি এভারেস্ট জয় নিয়ে মুসা যে স্মরণিকাটি প্রকাশ করেন, তাতে মুসার সঙ্গে অন্য যাদের কথা বলা হয়েছে, তাদের কারোর নামই ‘নেপাল পর্বত’-এ নেই বলেও দাবি ওই টিভি চ্যানেলের।
:
এ দেশে আজ পর্যন্ত যতজন পর্বতারোহী তৈরি হয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই কোনো-না-কোনো পর্বতারোহণ দলের সঙ্গে যুক্ত আছেন। সেদিক থেকে দেশের অন্যতম ‘অ্যাকটিভ গ্রুপ’ বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রাকিং ক্লাব। তাদের হাত ধরেই এভারেস্ট জয় করেছেন নিশাত মজুমদার এবং এম এ মুহিত। তবে তাদের সঙ্গে নেই মুসা ইব্রাহীম। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, ২০১০ সালের ২৩ মে ভোর ৫টা ১৬ মিনিটে কী ঘটেছিল এভারেস্টে?মুসা ইব্রাহীম যখন প্রথম এভারেস্ট জয় করার কথা ঘোষণা করেন, তখন সেটা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল! সেই অনেকের মধ্যে ছিলেন এ দেশের অন্য পর্বতারোহীরা। মুসা ইব্রাহীমকে নিয়ে তাদের সন্দেহের শুরু তখন থেকেই, যখন তিনি অন্নপূর্ণা-৪, লাংশিশারি ও মেরাপিক-এর মত পর্বতের চূড়ায় না উঠেই বলেছিলেন, ‘জয় করেছি।’না, এ কথা আমরা বলছি না! এটা মিডিয়ার তৈরি কোনো গল্পও নয়। একথা আগেই বলেছেন তার সহ-আরোহীরাই। এ কারণে এক সময় তাকে দল থেকে বহিস্কারও করা হয়েছিল।
:
যে মানুষটি এর আগেও এ ধরণের অসত্য তথ্য দিয়েছেন তার ‘এভারেস্ট জয়’-এর কথা হজম করতে কষ্টই হয়েছিল তাকে চেনা-জানা পর্বতারোহীদের। তখন থেকেই তৈরি হয় সন্দেহ আর অবিশ্বাস। এ ক্ষেত্রে বিজয়ীর (মুসা ইব্রাহীম) দায়িত্ব ছিল সব ধরণের সন্দেহ পরিস্কার করা। কিন্তু মুসা তা করতে পারেননি। মুসার লেখা এভারেস্ট জয়ের গল্পেও পাওয়া গেছে অন্য আরোহীদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতি। তার কাছে নেই কোনো ছবি যা দিয়ে তিনি সব কিছু প্রমাণ করতে পারেন। মুসা ইব্রাহীম লিখেছেন, তার দলটি ছিল বরাবরই একটি বিশেষ দল। কারণ, সেই দলের সবাই ছিলেন প্রথম এভারেস্ট আরোহী। মন্টেনিগ্রোর যে তিন পর্বতারোহী মুসার সঙ্গী ছিলেন তারাও প্রথম এভারেস্ট আরোহী বলে উল্লেখ আছে তার বইয়ে। ওই দলে সার্বিয়ার এক ডাক্তারের নামও ছিল। তাদের সঙ্গে নেপাল থেকে গিয়েছিলেন ‘জিরেল’ সম্প্রদায়ের প্রথম এভারেস্ট আরোহীরাও। কিন্তু তারা ‘জয়’ করতে পেরেছিলেন কিনা সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এ কারণে আট জনের দলের সবাইকে যখন শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছিল, তখন মুসার ব্যাপারে সবার মনে প্রশ্ন ছিল-সত্যিই কী তিনি উঠেছেন এভারেস্টে চূড়ায়?
:
বাংলাদেশি হিসেবে মুসা ইব্রাহীমের প্রথম এভারেস্ট জয় নিয়ে এখন একটি মামলাও চলছে আদালতে। বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও লেখক ইনাম আল হক চন্দ্রাবতী একাডেমীর শিশুতোষ বই ‘সকাল বেলার পাখি’র জন্য লিখেছিলেন একটি প্রবন্ধ। তাতে এম এ মুহিতকে প্রথম এভারেস্ট জয়ী দাবি করে ছবি ছাপা হয়। এর বিরুদ্ধে আদালতে যান মুসা ইব্রাহীম। ঘটনাটি আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ালে ‘সকাল বেলার পাখি’র স¤পাদক মুসার আগের সব ‘প্রতারণার’ কথা আদালতে তুলে ধরেন। এ ছাড়া অন্য পর্বতারোহী এবং প্রচার মাধ্যমও নানা প্রশ্ন তোলে। তাদের প্রশ্ন, যেহেতু মুসা ইব্রাহীম পেশায় সাংবাদিক, তাই লেখালেখির হাত তার ভালো থাকারই কথা। তবে বেইজ ক্যাপ থেকে চূড়া পর্যন্ত সেই ভয়াবহ আর মৃত্যুফাঁদের কোনো স্পষ্ট বর্ণনা তার লেখায় নেই।
:
এ সব কথা কেন নেই তার লেখায়? তবে কী মুসা লিখতে ভুলে গেছেন? যেখানে এমন মৃত্যুকূপের কথা কেউ বাকি জীবনে ভুলতে পারেন না, সেখানে মুসা তা কিছুদিনের মধ্যেই ভুলে গেলেন কীভাবে? এ ব্যাপারে আদালতে যে মামলা চলছে, তার রায় কী হয়, সেটার দিকে তাকিয়ে আছেন অনেকেই। তারা বলছেন, এই মামলা করেই জটিলতার ফাঁদে পড়েছেন মুসা ইব্রাহীম। প্রতিপক্ষ তার এভারেস্ট জয় নিয়ে নানা ধরণের প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাচ্ছে। আর এ কারণেই প্রতিনিয়ত তিনি জড়িয়ে পড়ছেন বিতর্কে।
:
সুতরাং দেশের স্বার্থে এসব বিতর্কিত অথচ অপচয়মূলক এভারেস্ট বিজয় নিরুৎসাহিত করা উচিত অন্তত ২০১৫’র বাংলাদেশে।
মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয় নিয়ে দেশে বিদেশ বিতর্ক !
:
বিগত বছর বাংলাদেশের হিমালয়জয়ী মৃত খালেদ সজলের লাশ সরকারি খরচে দেশে আনার জন্য তার আত্মীয়স্বজনরা সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন। খবরে প্রকাশ, ২৮০০০ ফুট থেকে লাশ উদ্ধার ও দেশে আনতে কমপক্ষে ৬০-৭০ লাখ টাকা খরচের প্রয়োজন। কিন্তু নেপালের বাংলাদেশ Embassy চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি লাশ উদ্ধারে। এ প্রসঙ্গে হিমালয় বিজয়ী ৪+১ বাংলাদেশিদের প্রতি ‘যথাযথ সম্মান’বজায় রেখে বলতে চাইছি, হিলারী-তিনজিং-এর সাহসী এভারেস্ট বিজয় এখন আর নেই। এখন নেপালের শেরপাদের সহযোগিতায় এ ‘বাণিজ্যিক কর্মসূচিতে’ বিশ্বের ল্যাংড়া-লুলা, অন্ধ-খোঁড়া, শিশু-বৃদ্ধ অনেকেই তথাকথিত ‘হিমালয় বিজয়’করছেন প্রায় প্রতিদিন তথা প্রতিনিয়ত।
:
অনেকে হেলিকপ্টারে হিমালয়ের বিশেষ স্থানে নেমে শুরু করেন আনন্দের এভারেস্ট বিজয়! সপ্তপদী সমস্যায় আক্রান্ত [যেখানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত ঔষধ নেই, সাভার ট্রাজেডির অনেককে কৃত্রিম হাত-পা’র ব্যবস্থা করা জরুরী, বস্তিতে মানুষ বসবাসের মানবিক পরিবেশ নেই এদেশে ইত্যাদি] বাংলাদেশিদের জন্য এ ‘সখের হিমালয় বিজয়’ কতটা যুক্তিযুক্ত তা চিন্তার বিষয় এবং যখন মৃত বিজয়ীকে আনতে সরকারের আর্থিক সহযোগিতা চান স্বজনরা। সুতরাং ‘ফিউচার এভারেস্ট বিজয়ী’দের অনুরোধ করবো, অপচয়মূলক এ কাজ বাদ দিয়ে, দেশের অনেক মৌলিক সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসুন, মানুষ খুশি হবে।
:
[ উদাহরণ : রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আপনারা এ শক্তি ব্যবহার করতে পারতেন, এখনও আহতদের পুনর্বাসনে এগিয়ে আসতে পারেন]। তা ছাড়া এখন বিশ্ব মিডিয়ায় বাংলাদেশি এভারেস্ট বিজয়ীদের বিজয়কে ভুয়া বলেও খবর প্রচারিত হয়েছে, যা দেখানো হয়েছে একাত্তর টিভিতে। তা ছাড়া টাকা খরচ করলে নাকি বিদেশি “রেডিমেড পিএইচডি”র মত তিব্বত বা নেপালের বিশেষ অঞ্চল দিয়ে “তথাকথিত এভারেস্ট বিজয়ের সার্টিফিকেট” ও ছবি নাকি সহজলভ্য বর্তমান বাণিজ্যিক এভারেস্ট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাছে।
:
এদিকে খবরে প্রকাশ বাংলাদেশের মুসা ইব্রাহীম নাকি এভারেস্ট জয় করেননি! এই বিতর্ক শুরু হয়েছে দেশের ও বিদেশের গণমাধ্যমগুলোতে। এদেশের সন্তান হিসেবে ‘প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী’মুসা ইব্রাহীমকে নিয়ে ক’দিন আগেও যে আনন্দ-উল্লাস হয়েছে, তাতে এক প্রকার জল ঢেলে দিয়েছে এই অবাক করা খবর। মুসা ইব্রাহীমকে নিয়ে আনন্দে আত্মহারা জাতি এখন সত্যি সত্যিই অনেকটা বিরক্ত! গত বছর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সংবাদে উঠে এসেছে মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয়ের বিতর্কটি। সেখানে বলা হয়, এভারেস্ট জয়ীদের নিয়ে নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয় ও নেপাল মাউন্টেনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশনা ‘নেপাল পর্বত’-এ নাম নেই মুসা ইব্রাহীমের। নেপাল মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জিম্বা জাংবু শেরপা ওই টেলিভিশনকে বলেন, ‘এভারেস্ট জয় করা নিয়ে মুসা যে ছবিটি দেখিয়েছেন সেটি চূড়ার নয়। এটি সাত হাজার ফুট ওঠার পর তোলা ছবি।’এভারেস্ট জয়ী আরেকজন থেম্বু শেরপাও এ ছবিটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এমনকি এভারেস্ট জয় নিয়ে মুসা যে স্মরণিকাটি প্রকাশ করেন, তাতে মুসার সঙ্গে অন্য যাদের কথা বলা হয়েছে, তাদের কারোর নামই ‘নেপাল পর্বত’-এ নেই বলেও দাবি ওই টিভি চ্যানেলের।
:
এ দেশে আজ পর্যন্ত যতজন পর্বতারোহী তৈরি হয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই কোনো-না-কোনো পর্বতারোহণ দলের সঙ্গে যুক্ত আছেন। সেদিক থেকে দেশের অন্যতম ‘অ্যাকটিভ গ্রুপ’ বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রাকিং ক্লাব। তাদের হাত ধরেই এভারেস্ট জয় করেছেন নিশাত মজুমদার এবং এম এ মুহিত। তবে তাদের সঙ্গে নেই মুসা ইব্রাহীম। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, ২০১০ সালের ২৩ মে ভোর ৫টা ১৬ মিনিটে কী ঘটেছিল এভারেস্টে?মুসা ইব্রাহীম যখন প্রথম এভারেস্ট জয় করার কথা ঘোষণা করেন, তখন সেটা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল! সেই অনেকের মধ্যে ছিলেন এ দেশের অন্য পর্বতারোহীরা। মুসা ইব্রাহীমকে নিয়ে তাদের সন্দেহের শুরু তখন থেকেই, যখন তিনি অন্নপূর্ণা-৪, লাংশিশারি ও মেরাপিক-এর মত পর্বতের চূড়ায় না উঠেই বলেছিলেন, ‘জয় করেছি।’না, এ কথা আমরা বলছি না! এটা মিডিয়ার তৈরি কোনো গল্পও নয়। একথা আগেই বলেছেন তার সহ-আরোহীরাই। এ কারণে এক সময় তাকে দল থেকে বহিস্কারও করা হয়েছিল।
:
যে মানুষটি এর আগেও এ ধরণের অসত্য তথ্য দিয়েছেন তার ‘এভারেস্ট জয়’-এর কথা হজম করতে কষ্টই হয়েছিল তাকে চেনা-জানা পর্বতারোহীদের। তখন থেকেই তৈরি হয় সন্দেহ আর অবিশ্বাস। এ ক্ষেত্রে বিজয়ীর (মুসা ইব্রাহীম) দায়িত্ব ছিল সব ধরণের সন্দেহ পরিস্কার করা। কিন্তু মুসা তা করতে পারেননি। মুসার লেখা এভারেস্ট জয়ের গল্পেও পাওয়া গেছে অন্য আরোহীদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতি। তার কাছে নেই কোনো ছবি যা দিয়ে তিনি সব কিছু প্রমাণ করতে পারেন। মুসা ইব্রাহীম লিখেছেন, তার দলটি ছিল বরাবরই একটি বিশেষ দল। কারণ, সেই দলের সবাই ছিলেন প্রথম এভারেস্ট আরোহী। মন্টেনিগ্রোর যে তিন পর্বতারোহী মুসার সঙ্গী ছিলেন তারাও প্রথম এভারেস্ট আরোহী বলে উল্লেখ আছে তার বইয়ে। ওই দলে সার্বিয়ার এক ডাক্তারের নামও ছিল। তাদের সঙ্গে নেপাল থেকে গিয়েছিলেন ‘জিরেল’ সম্প্রদায়ের প্রথম এভারেস্ট আরোহীরাও। কিন্তু তারা ‘জয়’ করতে পেরেছিলেন কিনা সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এ কারণে আট জনের দলের সবাইকে যখন শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছিল, তখন মুসার ব্যাপারে সবার মনে প্রশ্ন ছিল-সত্যিই কী তিনি উঠেছেন এভারেস্টে চূড়ায়?
:
বাংলাদেশি হিসেবে মুসা ইব্রাহীমের প্রথম এভারেস্ট জয় নিয়ে এখন একটি মামলাও চলছে আদালতে। বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও লেখক ইনাম আল হক চন্দ্রাবতী একাডেমীর শিশুতোষ বই ‘সকাল বেলার পাখি’র জন্য লিখেছিলেন একটি প্রবন্ধ। তাতে এম এ মুহিতকে প্রথম এভারেস্ট জয়ী দাবি করে ছবি ছাপা হয়। এর বিরুদ্ধে আদালতে যান মুসা ইব্রাহীম। ঘটনাটি আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ালে ‘সকাল বেলার পাখি’র স¤পাদক মুসার আগের সব ‘প্রতারণার’ কথা আদালতে তুলে ধরেন। এ ছাড়া অন্য পর্বতারোহী এবং প্রচার মাধ্যমও নানা প্রশ্ন তোলে। তাদের প্রশ্ন, যেহেতু মুসা ইব্রাহীম পেশায় সাংবাদিক, তাই লেখালেখির হাত তার ভালো থাকারই কথা। তবে বেইজ ক্যাপ থেকে চূড়া পর্যন্ত সেই ভয়াবহ আর মৃত্যুফাঁদের কোনো স্পষ্ট বর্ণনা তার লেখায় নেই।
:
এ সব কথা কেন নেই তার লেখায়? তবে কী মুসা লিখতে ভুলে গেছেন? যেখানে এমন মৃত্যুকূপের কথা কেউ বাকি জীবনে ভুলতে পারেন না, সেখানে মুসা তা কিছুদিনের মধ্যেই ভুলে গেলেন কীভাবে? এ ব্যাপারে আদালতে যে মামলা চলছে, তার রায় কী হয়, সেটার দিকে তাকিয়ে আছেন অনেকেই। তারা বলছেন, এই মামলা করেই জটিলতার ফাঁদে পড়েছেন মুসা ইব্রাহীম। প্রতিপক্ষ তার এভারেস্ট জয় নিয়ে নানা ধরণের প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাচ্ছে। আর এ কারণেই প্রতিনিয়ত তিনি জড়িয়ে পড়ছেন বিতর্কে।
:
সুতরাং দেশের স্বার্থে এসব বিতর্কিত অথচ অপচয়মূলক এভারেস্ট বিজয় নিরুৎসাহিত করা উচিত অন্তত ২০১৫’র বাংলাদেশে।
লেখাটি ফেসবুকে দেখতে চাইলে নিচের লিংকে যান প্লিজ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন