শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

বেদের মেয়ের আদিকথা : প্রবন্ধ # ৪৬



বেদের মেয়ের আদিকথা
:
আমি এই সমাজে এমন একজন যে পোড় খেয়ে বুঝেছে সমাজটা কতটা পোড়া। ধন্যবাদ আমার পোড়া শরীরটাকে এত কিছু শেখানোর জন্য। আমি জানিনা সবাই কিভাবে শেখে কিন্তু আমি বলতে পারি আমি শরীর পুড়িয়ে শিখেছি। ছোটবেলায় আমার যখন শরীর পোড়ে তখন হয়ত একটা পুরুষ মানুষের কপালও পোড়ে। তার শয্যাকে আমি কখনই উত্তপ্ত করতে পারব না। সে না দেখা স্বামির জন্য আমার মনের গভীরে একটা আফসোস আছে। ঠিক যেমন তোমাদের আছে। সত্যি বলছি এগার বছর বয়সে এসিডে সারা শরীর পোড়ার পর যখন জ্ঞান ফেরে তখন তীব্র যন্ত্রণার মাঝেও শুনতে হয়েছিল "এ মেয়েটার আর বিয়ে হবে না" । তোমরা হয়ত জানোনা সেই তীব্র যন্ত্রণার মধ্যেও আমি আমার না দেখা পুরুষ মানুষটার জন্য কষ্ট পেয়েছিলাম। এখনও পাই।

আমরা নাকি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বাস করি। শুনলে হাসি পায়। আমার জীবন দিয়ে আমি শিখেছি নারীর প্রধান শত্রু নারী। পুরুষ মানুষ খারাপ হলেও হতে পারে কিন্তু নারীরা দুধে ধোঁয়া তুলসি পাতা নয়। আমার সারা জীবনে যতগুলো আক্রমণের শিকার হয়েছি তার চৌদ্দ আনাই নারীদের দ্বারা। পুরুষ মানুষ কুকুরের মত; হিংস্র তবে বশে আনা যায়। নারীরা বুনো হিংস্রতা নিয়ে জন্মায়। যখন যেখানে দেখানো সুযোগ পায় দেখায়। আমার সারা জীবনে অনেক দেখেছি। কিভাবে?
:
বলছি,
এগার বছর বয়সে যখন সারা শরীর পোড়ে তখন ঠোট পোড়ে, গাল পোড়ে, গলা পোড়ে, স্তন পোড়ে, পেট পোড়ে, যৌনি পোড়ে, নিতম্ব পোড়ে , সব পোড়ে। তখন আমার কল্যানের (!) জন্য এক নারী এগিয়ে এসেছিল। বাবাকে বুদ্ধি দিল Bangkok নিয়ে গিয়ে মেয়ের চিকিৎসা করান। চিকিৎসায় আমার যৌনপথ ঠিক হল। বছর খানিক এর মধ্যে নিয়মিত মাসিক হতে লাগল। নারীদের মধ্যে যেটুকু স্বাভাবিক যৌন চাহিদা তাও শরীরে অনুভব করতে লাগলাম। কিন্তু সেই মহীয়সী নারী (!) এক বারও কি ভেবেছিল এই চেহারা দেখে কোন পুরুষ মানুষতো আকৃষ্ট হয় না। পোড়া শরীরে আমি এখন যৌন চাহিদা বয়ে বেড়াচ্ছি। এটা কি অমানবিকতা নয়?
:
দুঃখ লাগে। কিন্তু আমি হিংসুটে না। তোরা যখন সেজেগুজে আমার চোখের সামনে দিয়ে যাস তখন তোদের দেখে ভালো লাগে। আমারও এমন ইচ্ছা করে সাজতে। আমার কাছে অনেক লিপস্টিক আছে। আমারও মন চায় লিপস্টিক পড়তে যাতে কেউ এসে নষ্ট করে দেয়। কিন্তু সেটা আমার ভাগ্যে নেই। এর জন্য আমি কোনভাবেই অপরাধীনি নই।
:
যাই হোক, এসিডে পোড়া শরীর নিয়ে এক সময় ভাবতাম হয়ত কোন এসিডে পোড়া নারীর পাশে গেলে শান্তি পাব। একটা এনজিওতে চাকরি নিলাম। যেখানে বেশিরভাগ নারীই এসিডে পোড়া। প্রথমে পরিবার থেকে তীব্র প্রতিবাদ উঠেছিল। মেয়েদের মধ্যে শুধু মা আর দিদা বাদে সবগুলোই গরম চোখে তাকিয়েছিল আর পুরুষদের মধ্যে বলতে গেলে কেউই বাধা দেয়নি, অবাকও হয়নি। তাদের মেয়েকে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাঠানোর মত উদারতা দেখিয়েছে। সেক্ষেত্রে চাকরি করতে পাঠাতে অসুবিধা কি? মেয়েতো আর টাকা কামাতে যাচ্ছে না। এই রকম দশ বারোটা এনজিও বাবা চোখের পলকে কিনে ফেলার মত সামর্থ রাখে। শেষ পর্যন্ত দাদা যখন বলল আমার বেগম (দাদা আমাকে বেগম বলে) চাকরিতে যাচ্ছে তখন মেয়েদের কিচির-মিচির কিছুটা হলেও বন্ধ হল।
:
প্রথমদিন চাকরিতে গেলাম। কিভাবে যেন আগে থেকেই প্রচার হয়ে গিয়েছিল বিরাট বড়লোকের মেয়ে শখের বশে চাকরিতে এসেছে। আরে মানসিক প্রতিবন্ধীর দল আমি শখের বশে চাকরিতে আসি নাই। তোদের মত উজবুক আমি নই। যাই হোক প্রথমদিন অফিস থেকে বাইরে এসে দেখি দাদা গাড়ি নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আনন্দের সাথে দাদাকে নিয়ে বাড়িতে ফেরলাম। ছোট্ট একটা মেয়ের মত দাদার গায়ে গা মিশিয়ে অস্ফুট স্বরে প্রথম দিনের ঘটনা বললাম। দাদাও খুব খুশি নাতনীর খুশিতে। অবশ্য পরবর্তীতে দাদার একটা অবৈধ কাজের বিষয়ে জানতে পেরেছিলাম। সেই ঘটনা বলব একটু পড়ে। তার আগে বাড়ির নারীদের আর অফিসের নারীদের বিষয়ে কিছু বলব।
:
অফিস থেকে আসার পর প্রথম দিন আমার দিকে ভিন্ন এক দৃষ্টিতে তাকানো হলো। যেন একটা ভিন গ্রহের প্রাণী। আমি অতি উৎসাহ আর উত্তেজনায় যাকেই (এখানে আমার বাড়ির মেয়েদের কথা বলছি) অফিসের কথা বলতে যাই সেই একটু আকটু শুনে আমার সামনের থেকে উঠে যায়। star plus এ নাটক হচ্ছে তা দেখাটা ভীষন জরুরিতো তাই। যাই হোক আমার প্রথমদিনের আনন্দ ফিকে হয়নি কারন বাবা আর দাদা সম্পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল।
:
এখন অফিসের বিষয়ে আসি। প্রথমদিন কাজের কোন চাঁপ ছিল না। মোটামুটি পরিচয় পর্ব দিয়েই সময় কেটেছে। বেশ কিছু দিন লেগেছিল বুঝতে যে আমি শুধু বাড়িতে না অফিসেও ভিন গ্রহের প্রাণী। সবাই একটু দূরত্ব বজায় রেখে আমার সাথে কথা বলত। কেউ কোন বিষয় নিয়ে হয়ত কথা বলছে আমি সামনে গেলেই চুপ হয়ে যেত। আমিও এসব নিয়ে মাথা ঘামাতাম না। আমি আমার কাজ নিয়ে সুখে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারি নি। কারন বেশিরভাগ সময় আমাকে তেমন একটা কাজ দেওয়া হত না। সবাই যেখানে খাটতে খাটতে অস্থির সেখানে আমি হয় আরামসে এসির বাতাস খেতাম নয়ত বসের রুমে আড্ডা মারতাম। কোন কোন দিন আমি যদি বসকে বলতাম দিন এটা আমি করে দেই। তখন তিনি মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলত "ধন্যবাদ মিস আশা। কিন্তু এখন আপনি এই কাজটি করতে পারবেন না। আপনাকে আমি দেব কিন্তু এখন না একটু ধৈর্যশীল হন।" কয়েক মাস আমাকে এমন ধৈর্যশীল হয়ে থাকতে হয়েছিল। ও আর একটা কথা "তুমি" শব্দটা আমার খুব পচ্ছন্দের। অফিসের জুনিয়ররা না হয় আপনি করে বলত ঠিক আছে কিন্তু সিনিয়ররা যে কেন আপনি করে বলত বুঝতে পারি নি তখনও। অনেক অনুরোধ, অনুনয় করেও চাকরির শেষ দিন পর্যন্ত তাদেরকে আপনি থেকে তুমিতে নিয়ে আনতে পারিনি। যদিও আমার মত একই পদমর্যাদার অনেককে সিনিয়র অফিসারেরা সময়ে তুই-তুকারি করত। গালি-গালাজ তো মামুলি ব্যাপার। আমার ক্ষেত্রে এমন ব্যতিক্রম কেন? বুঝতে অনেক সময় লেগেছিল। মাঝে মাঝে বসের রুমে বসে থাকার সময় অপরিচিত কেউ আসলে বস পরিচয় করিয়ে দিতেন এভাবে, এই হচ্ছেন মিস/মিস্টার অমুক আর ইনি হচ্ছেন মিস আশা, আবুল হোসেন সাহেবের মেয়ে। প্রথম দিকে খেয়াল না করলেও যখন পরপর আমাকে একইভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে থাকলো তখন আমি খেয়াল করলাম। আমার পরিচয় একমাত্র আমার বাবার পরিচয়। এখানে আমার নিজের কোন পরিচয় নেই। যদিও আমি এক সময় খুব খুশি মনে আমার নাম লিখতাম আশা বিনতে হোসেন। বিনতে হোসেন অর্থাৎ হোসেনের মেয়ে এই পরিচয়টা আমার বিরক্তি লাগতে শুরু করল। 
এবার আসি পারসেন্টেজ এর বিষয়ে। পারসেন্টেজ অর্থাৎ শতাংশ। প্রায় একটা প্রশ্ন আমার দিকে ছুটে আসত সেটা হচ্ছে "আপনার কত পারসেন্ট বার্ন?" আমি বলতাম এইট্টি-সেভেন অর্থাৎ সাঁতাশি শতাংশ। খেয়াল করে দেখতাম অনেকে এই উত্তর শুনে খুশি হচ্ছে। খুশির কারণ অনুসন্ধান করে জানতে পারলাম এরা আমার চেয়ে কম পোড়া তাই খুশি হচ্ছে। এখানেই মেয়েদের হিংসাত্নক কুটিল রূপগুলো দেখতে পেলাম। আঁতকে উঠেছিলাম এদের নোংরা মনভাব দেখে। তুইও যেমন পোড়া আমিও তেমনি পোড়া। তুইও যেমন কুৎসিত আমিও তেমন কুৎসিত। একশোর ভগ্নাংশের পার্থকে তুই যদি খুশি হস তো হ আমার কোন আপত্তি নাই কিন্তু আমাকে অপমান করার কোন অধিকার তোর নেই। নিজেকে ঘুটিয়ে নিতে থাকলাম। মানাতে চেষ্টা করলাম এসবের সাথে। মনকে বোঝালাম সব মনের সমান্তরালে চলে না। যাই হোক একদিন দাদার অবৈধ কাজের বিষয়ে জানতে পারলাম আর এরপর দিন থেকেই অফিসে যাওয়া আমার বন্ধ। এরদিন সাইডে ছিলাম। ঘাড়ে পুরু ময়লা নিয়ে এক মহিলা আসল আমার পাশে। এটা সেটা বলে খাতির জমাল। তারপর হঠাৎ বিস্ফোরণ "আপনার বাবার অনুদানে এই এনজিও কি সুন্দরভাবে চলছে।"
:
আমি কতক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম মহিলার দিকে তারপরও মহিলা কি যেন বলছিল। আমি আর শুনতে পাইনি। বসের থেকে ছুটি নিয়ে গাড়িতে চড়ে বসলাম। বাসার আসার পথে আব্বুকে তুলে নিলাম। আমি রাগতে পারি না, চিৎকার -চেচামেচি করা আমার চরিত্র এর সাথে খাপ খায় না। সেদিন আমার থমথমে মুখ দেখে বাবা ভয় পেয়েছিল। গাড়িতে জিজ্ঞাস করছিল কি হয়েছে মা। আমি চুপ করে ছিলাম। বাসায় এসে আব্বুকে সব কথা বলে কারণ জিজ্ঞাস করেছিলাম। কেন তিনি আমাকে এমন অপমান করলেন জানতে চাইলাম। বাবা ছলছল চোখে বলেছিল, "বাবার হুকুম ছিল" । অর্থাৎ মূল কারণ দাদা। সেদিন আমি আমার দাদাকে কাঁদতে দেখেছি। তিনি তাঁর বিশাল শরীর নিয়ে আমার সামনে বসে কেদেছিল। বারবার ক্ষমা চাচ্ছিল বেগম এর কাছে। কিন্তু বেগম একটা কথাও বলেনি, কাঁদেও নি। পরবর্তীতে সবাই অনেক অনুরোধ করেছিল চাকরিতে ফেরত যেতে। নিয়ম রক্ষার্থে প্রথমে গৃহবাসী যেই নারীরা আমার চাকরির বিরোধিতা করেছিল তারাও বলল চাকরিতে ফেরত যেতে। কিন্তু আত্নসম্মানে আঘাত নিয়ে বেগম আর যাবেনা। যেখানে আমার নিজের কোন পরিচয় নেই সেখানে গিয়ে কি লাভ।
:
এবার আসি কোটিপতির মেয়ে কিভাবে বেদের মেয়ে হয়ে গেল। মূলত এই কথাটা বলার জন্য আমার এই লেখা। তখন আমি চাকরিতে ছিলাম। সালটা 2012। একদিন সাইডের কাজে মানিকগঞ্জ জেলার ধামরাইতে গিয়েছি। রাস্তার পাশে ছোট একটা চায়ের দোকানে সিনিয়ার সহকর্মীদের নিয়ে বসেছিলাম। কোথা থেকে একটা ছোট মেয়ে আমার সামনে এসে দাড়াল। তার হাতে একটা সাপ। সাপটা ওর গলা পেচিয়ে আছে। আতঙ্কে সহকর্মীরা সব পেছনে সরে গেল কিন্তু আমি নড়লাম না। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম এই শীতল রক্তের প্রাণীটি কি অদ্ভূদ কোমল দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। যেন সে আমার মধ্যে সৌন্দর্য দেখছে। এমন দৃষ্টি নিয়ে মানবকূলতো আমাকে দেখে না। আমার দিকে একবার তাকিয়েইতো মানুষ চোখ ফিরিয়ে নেয়। তবে এ আমার মধ্যে কি দেখছে? আমার দিকে তাকানোর পর মানুষের চেহারার রেখাগুলো পরিবর্তিত হয়। এই সূক্ষ পরিবর্তনগুলো দেখে আমি বুঝতে পারি তারা কোন কুৎসিতকে দেখেছে অর্থাৎ আমাকে দেখেছে। কিন্তু এর ছোট্ট চেহারাতে আমি এমন কোন পরিবর্তন দেখিনি যা থেকে বোঝা যায় সে কোন কুৎসিত কিছু দেখেছে। আমি আরও অবাক হলাম মেয়েটাও আমার দিকে ঐ সাপটির মতই তাকিয়ে আছে। মেয়েটি আমার কাছে সাহায্য চাইল আমি দিলাম ওকে কিছু। ও যখন ফেরত যাচ্ছিল তখন দেখি সাপটা আমার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখছে। ভীষণ আনন্দ নিয়ে সেদিন বাসায় এসেছিলাম।
:
পরদিন কিসের যেন একটা ছুটি ছিল। আমি দাদাকে বললাম আমাকে কাটাবন নিয়ে যেতে। কুকুরের দোকানগুলোর সামনে এসে দাড়ালাম। কুকুরগুলো আমাকে দেখছে। ঠিক একই রকম কোমল দৃষ্টিতে । সাদা একটা বিড়াল আমার দিকে তাকাল ওর দৃষ্টিতে অহংকারের ছাপ। ততক্ষণে আমি মজা পেতে শুরু করেছি। দাদাকে বললাম আমাকে সোহরাওর্য়াদী উদ্দানে নিয়ে যেতে। একগাদা রুটি কিনলাম। একটা একটা করে রাস্তার কুকুরগুলোকে খাওয়াতে থাকলাম। কুকুরগুলো কি বিশাল মমতায় আমার দিকে দেখছে। দাদাও মমতা নিয়ে দেখছিল তার বেগমকে। পরদিন আবার গেলাম কুকুরদের খাওয়াতে। ইতিমধ্যে এরা আমাকে চিনে গেছে। এরপর দিন ইচ্ছা করে খাবার নিয়ে যাইনি তবুও দেখি কুকুরগুলো কি মমতা নিয়ে আমাকে দেখছে!
:
এরপর শুরুহল আমার গবেষনা। আমার প্রতি বিভিন্ন প্রাণীর দৃষ্টিভঙ্গি বিচার করতে লাগলাম। নির্বাচনের সময় এলাকায় হাতি আসল। সবাই যখন ভয়ে রাস্তা ছেড়ে দিত তখন আমি হাতির সামনে এসে দাড়াতাম। ওর তাকানো দেখতাম। এই বিশাল শরীরের প্রাণীটা শূর তুলে আমাকে সালাম করত। কোরবানীর ঈদে বাড়িতে গরু আসল। আমি ঘন্টার পর ঘন্টা গরুর সামনে ব্যায় করতে লাগলাম। ছাগলের ছানা আমাকে দেখে তিড়িংবিড়িং লাফাত। কিন্তু কোন প্রাণীর দৃষ্টিতেই আমি আমার প্রতি ঘৃণা দেখি নাই। এমনকি হিংস্র বাঘ, সিংহ, হায়না, শেয়ালের চোখেও না। তারা হয়ত আমাকে খাদ্য হিসেবে ভেবে জিহবা চেটেছে কিন্তু ঘৃণা করেনি। মানুষই একমাত্র জীব যে আমার দিকে ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখেছে।
:
আমাদের বাড়ির পাশেই বুড়িগঙ্গা। এর ঘাটে ঘাটে কত বেদের দল আসে। আমি দাদার কাছে বায়না করে বেদের দলকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসতাম। সাপ দেখতাম আর দেখতাম বেদেদের। সাপের দৃষ্টি আমাকে সবসময় আকৃষ্ট করে। ওরা যেন জিহবা বের করে আমার সারা শরীরে চুমু খায়। 
:
একবার কি খেয়াল হল ভাবলাম আচ্ছা সাপেরাতো আমার দিকে কোমল ভাবে তাকায় তাহলে এই বেদেরা আর ঐ সাপুরেরা আমার দিকে কিভাবে তাকাবে। যেই ভাবা সেই কাজ হঠাৎ হঠাৎ ছোট ছোট কাপড় পড়ে নিজের শরীরের বেশিরভাগ অংশ দেখিয়ে পেছনদিক থেকে এদের সামনে হাজির হতাম। এখন পর্যন্ত একশ জনেরও বেশির ওপর এই পরীক্ষা চালিয়েছি। একজনও আতকে উঠে নি। ভয়ে একজনেরও মুখের রেখার পরিবর্তন হয়নি। এর কারন কি? হয়ত গা গিনগিন করা সাপগুলো দেখে দেখে এদের চোখ ঘৃণা করতে ভুলে গেছে।
:
[লেখাটি সমাজ-ধর্ম কর্তৃক ঠেলে দেয়া কষ্টক্লিষ্ট এক পরিযায়ী রূপান্তরিত (converted) বেদের মেয়ের লেখা]

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন