বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিতর্কঃ আমাদের ট্রাইবুনাল ভার্সাস ওদের ট্রাইবুনাল প্রবন্ধ # ১৪


কাদের মোল্লার পর অবশেষে কামরুজ্জামানকেও সাক্ষাৎ করানো হলো আজরাইলের সাথে, যদিও তারা নানা ধর্মকথা বললেও আজরাইলের সাথে সাক্ষাৎ না করতে কোন তাবিজ কবজই বাদ দেয়নি। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সবচেয়ে চমকপ্রদ ইস্যু হচ্ছে মানবতাবিরোধি তথা যুদ্ধাপরাধী তথা রাজাকারদের বিচার। আন্তজার্তিক অঙ্গণ ছাড়াও পুরো বাংলাদেশই এখন এ আন্দোলনে পুরোপুরি সম্পৃক্ত। কিন্তু শুরু থেকেই এ বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে একটি মহল বলার চেষ্টা করছে ট্রাইবুনালটি আন্তর্জাতিক মানের নয়, তা ছাড়া তারা বিচারের স্বচ্ছতা নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলেছেন দেশে বিদেশে সর্বত্র। আজকের নিবন্ধে আমরা দেখার চেষ্টা করবো বিশ্বের অন্যান্য ট্রাইবুনালের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রাইবুনালের স্বচ্ছতা ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে।
:
যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথা গ্রীক পুরানেও উলেস্নখ আছে। ১৪৭৪ সালে হাগেনবাখের স্যার পিটারকে যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। প্রাচীন সকল যুদ্ধেই যুদ্ধে পরাজিত পক্ষকে হত্যা কিংবা কৃতদাস হিসেবে বন্দী ও বিক্রি করা হতো। যুদ্ধে পরাজিত নেপলিয়নকে যুদ্ধাপরাধী ঘোষণা করে ১৮১৫ সালে বৃটেনের কাছে তুলে দেয় ভিয়েনা কনগ্রেস। যার ধারাবাহিকতায় তিনি সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসনে জীবন কাটান। ১৯২০ সালে ৪৫টি যুদ্ধাপরাধ মামলায় ১২ জনের বিচার করে জার্মানী। এ বিচার ‘‘লাইপজিগ ট্রায়াল’’ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত। নাৎসী যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য ১৯৪৫ সনে ইন্টা. মিলিটারী ট্রাইবুনাল গঠিত হয়, যা বিশ্বে নুরেমবার্গ ট্রাইবুনাল নামে বেশী পরিচিত। জাপানী যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইবুনালের নাম ছিল টোকিও ট্রাইবুনাল। হিটলারের সহযোগি আইখম্যানকে ১৯৬২ সনে আর্জেটিনায় বিচার করা হয়। ১৯৯০ সনে বসনিয়া, ক্রোসিয়া ও কসোভায় গণহত্যার জন্য মিলেসোভিচকে ২০০২ সনে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে বিচার করা হয়।

বাংলাদেশ ছাড়াও কয়েকটি বিশ্বখ্যাত ট্রাইবুনাল হচ্ছে যথাক্রমে : ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইবুনাল ফর রুয়ান্ডা, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইবুনাল ফর দ্যা ফরমাল যুগোসস্নাভিয়া, সিয়েরালিওনের বিশেষ কোর্ট (এসসিএসএল), কম্বোডিয়ার বিশেষ চেম্বার কোর্ট। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইবুনাল ফর দ্যা ফরমাল যুগোসস্নাভিয়া হচ্ছে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত প্রথম যুদ্ধপরাধ ট্রাইবুনাল। অন্যগুলোও আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল। ১৯৯৩ সনে জাতিসংঘ চ্যাপ্টার ৭ অনুযায়ী ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইবুনাল ফর দ্যা ফরমাল যুগোসস্নাভিয়া গঠিত হয়। বর্ণিত ট্রাইবুনালের প্রত্যেকটি ট্রায়ালে ৩-জন বিচারপতি ও সর্বোচ্চ ৬-বিচারক থাকতে পারবে। এ আদালতে ভিকটিম ও স্বাক্ষীদের অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আপিল চেম্বারে ৭ জন বিচারকের ৫-জন একমত হলেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইবুনাল ফর রুয়ান্ডা ১৯৯৪ সনের ৮ নবেম্বর গঠিত হয়।

১৯৯৪ সনে রুয়ান্ডায় সংগঠিত গণহত্যার জন্য এ ট্রাইবুনাল গঠিত হয়। এটি জাতিসংঘের ৯৫৫ রেজুলেশন অনুসারে তৈরী কর হয়। এ ট্রাইবুনালে ৩টি অঙ্গ হচ্ছে যথাক্রমে চেম্বার, আপীল চেম্বার ও প্রসিকিউটর অফিস। এটি তানজানিয়ার আরোশায় অবস্থিত। কম্বোডিয়ার বিশেষ চেম্বার কোর্ট (ইসিসিসি) : ১৯৭৫-১৯৭৯ সন পর্যন্ত শাসক খুমার রুজি রিজমির শাসনামলের যুদ্ধের অপরাধের জন্যে এ কোর্ট গঠিত কম্বোডিয়ার সংসদে পাসকৃত আইনে। এর বিচারক ৩ জন। রয়েছে প্রি ট্রায়াল চেম্বার, ট্রায়াল চেম্বার ও সুপ্রিমকোর্ট চেম্বার। ফর দ্যা ফরমাল যুগোসস্নাভিয়া হচ্ছে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত প্রথম যুদ্ধপরাধ ট্রাইবুনাল। ১৯৯২-৯৫ সন পর্যন্ত এক তরফা যুদ্ধে বসনিয়ার ২৫,৬০৯ জন মুসলিম নিহত হয়। সার্ব ও ক্রোয়েট বাহিনী এ যুদ্ধে বর্বরভাবে মানুষ হত্যা করে। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট শ্লোভোদান মিলোসোভিচ ও বসনিয়ার রাদোভান করাদিভ এ বিচারের আওতায় আসে। এ ট্রাইবুনাল হেগ শহরে তাদের কাজ শুরু করে। এ পর্যন্ত ১৬১ জন পলাতককে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে।

প্যালেস অব জাস্টিম নামে খ্যাত নুরেমবার্গ নাৎসি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত শ্রেষ্ঠ ট্রাইবুনাল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বৃটিশ বিচারক নরম্যান বারকেন ছিলেন এ কোর্টের বিচারপতি। এ কোর্টে ১৯৪৫-৪৬ সনে বিচারকার্য সম্পন্ন হয়। মোট ২৩ রাজনীতিকের বিচার করে সাজা দেয়ার পূর্বেই অভিযুক্ত রবার্ট লে ও গোয়েবলস আত্মহত্যা করেন। ১৯৪৫ সনে প্রতিষ্ঠিত লন্ডন চার্টারের ভিত্তিতে এ ট্রাইবুনালের বিচার কাজ সম্পন্ন হয়। ১৬০০ সামরিক ব্যক্তি ছাড়াও ২০০ জার্মানকেও অভিযুক্ত করা হয়। বিচারক ছিলেন ৭ জন ও প্রসিকিউটর ৪জন। জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় স্থাপিত কম্বোডিয়া ট্রায়ালে খরচ হয় ১৭০ মিলিয়ন ডলার, সিয়েরা লিওনে ১৪৯ মিলিয়ন ডলার, ইয়াগোসস্নাভিয়া ট্রায়ালে ৩০৬ মিলিয়ন ও রুয়ান্ডা ট্রায়ালে ৬১৫ মিলিয়ন ডলার। 
:
বাংলাদেশের জন্মলগ্ন ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা এর বিরোধীতা করে নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকান্ড যুক্ত হয়েছিল, স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭৩ সালে ‘‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন ১৯৭৩’’ নামে তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর সরকার একটি আইন প্রণয়ন করে, যা ১৯৭৩ সনের ১৯ নং আইন নামেও পরিচিত। আইনটি প্রণয়নে টোকিও ও নুরেমবার্গ বিচারের মূলনীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। এ আইনটির আওতায় ১৭.৪.১৯৭৩ তারিখে বাংলাদেশ সরকারের প্রেসনোটে তদেন্তর মাধ্যমে ১৯৫-জন পাকিস্তানীকে যুদ্ধপরাধী ঘোষণা করা হয়। দালাল এ আইনটিকে সংবিধানে বিশেষ রক্ষাকবচ প্রদান করা হয়েছে। আইনটির স্বচ্ছতার জন্য নুরেমবার্গ ট্রায়ালের বিচারে জড়িত অধ্যাপক ইয়েশেখের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়। এ আইনে খুন, নির্যাতন, যুদ্ধবন্ধী, বন্দী হত্যা, লুট ইত্যাদিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ছাড়াও আইনটিতে মানবতা বিরোধী অপরাধ, শান্তি বিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও ১৯৪৮ সালের জেনেভা কনভেনশন বিরোধী কাজকেও যুক্ত করা হয়। যদিও এ আইনটি প্রণয়নের আগেই ১৯৭২ সনের ২৪ জানুয়ারি দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইবুনাল) আদেশ নামে আরেকটি আইন সরকার প্রণয়ন করে। আইন জারীর পর ১৯৭৩ সন পর্যন্ত মোট ৩৭,৪৭১ জন রাজাকার দালালকে গ্রেফতার করা হয়। সারা দেশে মোট ৭৩টি ট্রাইবুনাল গঠন করে ২২ মাসে ২,৮৪৮টি দালাল মামলার রায় প্রদান করা হয়। দালাল আইনে ৩০.১১.১৯৭৩ সনে কেবল রাজাকার বা দালাল হিসেবে অভিযুক্ত (হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুট ছাড়া) ২৬,০০০ ব্যক্তিকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। ঐ সময় সরকার প্রেসনোট দিয়ে ঘোষণা করেন যে বর্ণিত ৪টি অপরাধে অভিযুক্ত ১১,৪৭১ জনের বিচার অব্যাহত থাকবে। ১১,৪৭১ জন দালাল-রাজাকারের মধ্যে মামলায় ৭৫২ জনকে শাস্তি প্রদান করা হয়েছিল, বাকিদের বিচার চলছিল। 
:
কিন্তু ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তৎকালীন শাসকরা ১৯৭৫ সনের ৩১ অক্টোবর দালাল আইন বাতিল করে, যার প্রেক্ষেতে ৭৫২ জন সাজাপ্রাপ্তসহ বিচারধীন ১১,৪৭১-জন দালাল-রাজাকারই জেল থেকে মুক্তি পায়। যদিও ব্যাপক প্রপাগা-া ছড়ানো হয় যে বঙ্গবন্ধু সবাইকে সাধারণ ক্ষমা করেছিলেন কিন্তু কথাটি আদৌ সত্য নয়। ১.৪.১৯৭২ বঙ্গবন্ধু এক জনসভায় ঘোষণা করেছিলেন, দালালের জন্য সুপারিশকারীকেও দালাল সাব্যস্ত করা হবে। দালাল আইনে বঙ্গবন্ধু সাধারণ রাজাকারদের ক্ষমা করলেও ১২১ক, ১২৮ক, ৩০২, ৩০৪, ৩৬৩, ৩৬৪, ৩৬৫, ৩৬৮, ৩৭৬, ৩৯২, ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬, ৩৯৭, ৪৩৫, ৪৩৬ ধারায় কৃত অপরাধীর বিচার ও সাজা অব্যাহত রাখেন। ১১.২.১৯৭৩ তারিখ খেলাফত মজলিসের মাও. মো. ইসহাককে (বর্তমানে ১৮ দলীয় জোটে) দালাল আইনে দন্ড প্রদান করা হয়। ঐ সময় জামাতের মাও আকামো ইউসুফ ও আববাস আলী খানকেও গ্রেফতার করে বিচার চলছিল। এ আইনে আল বদরের ৩ সদস্য আইয়ুব আলী, মকবুল হোসেন ও যোবায়েরকে মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়। চিকন আলী নামক একজন রাজাকারের মৃত্যুদন্ড হয় কিন্তু চিকন আলী ও আল বদরের বর্ণিত ৩ সদস্য ১৯৭৫ এর ডিসেম্বরে দালাল আইন বাতিলের পর মুক্তি পায়। দালাল আইনে কুমিল্লার আ: হাফিজের ৪১ বছর জেল প্রদান করা হয়। ১৯৭৫ সনে মেজর জিয়ার সামরিক ফরমানে আইনটি বাতিল করা হয়। এরপর জিয়ার সামরিক আমলেই Second proclamation order no. 2 of 1976 অর্ডার বলে নিষিদ্ধ জামাত তথা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এদেশে পুন. চালু হয়। 
:
বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রম্নতি দেয় ২০০৮ সনে বর্তমান সরকার। তারা ক্ষমতায় এসে ২৯.১.২০০৯ তারিখ সংসদে এ বিষয়ে আইন পাস করে। আইন কমিশনের সুপারিশ মোতাবেক ২০০৯ সনের আইনটি যুগোপযোগী তথা সংস্কার করা হয়। সংশোধনীতে ট্রাইবুনালে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি যুক্ত করা হয়। ২০১০ সনে বিচার কার্যক্রম শুরু করে। এর আওতায় ১ ও ২ নামে দুটো ট্রাইবুনাল কাজ শুরু করে। বিধি মোতাবেক প্রসিকিউটর প্যানেল, তদন্তকারী সংস্থা, বিচারপতি, বিচারালয় স্থাপন করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে গোলাম আযম, নিজামী, সাঈদী, কামরুজ্জামান, সাকা চৌধুরী, কাদের মোল্লা, আ. আলীমের বিচার শুরু হয়। বাংলাদেশ ট্রাইবুনালে বার কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষে বিদেশী আইনজীবী নিয়োগের বিধান রয়েছে। কিন্তু বার কাউন্সিলের আইন মোতাবেক কোন বিদেশী বাংলাদেশে আইন প্রাকটিস করতে পারে না। 
:
উপরে যে সকল আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের কথা বলা হয়েছে তার কোনটিই ১৯৭৩ সালের ‘‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন ১৯৭৩’’ এর চেয়ে কোন অংশেই স্বচ্ছ ছিল এমন কথা কেউ যৌক্তিকভাবে বলতে পারবে না। যদিও সেখানে নানা বিদেশী বিচারকের সমন্নয় ছিল। বাংলাদেশে যদি স্বদেশী বিচারকের স্বল্পতা না থাকে তবে বিদেশী বিচারক দিয়ে কেন বিচার করাতে হবে? আর বিদেশী আইনজীবী নিয়োগের বিধান বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আইনে-ই নেই। এটি একটি মারাত্মক যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক ট্রাইবুনাল হলেও, বেশ ক’জন আসামী জামিনে আছেন। তা ছাড়া বিচারাধীন ব্যক্তিরা ডিভিশন ও আধুনিক হাসপাতালে সুচিকিৎসা পাচ্ছেন। তাদের পাজা কোলা করে ট্রাইবুনালে হাজির করানো হচ্ছে ও জামাই আদরে কোলে করে হাজতে নেয়া হচ্ছে। আসামীদের তেলতেলে চেহারা ও প্রদর্শিত ‘ভি’ চিহ্ন দেখে মনে হচ্ছে তারা বেশ খোজ মেজাজেই আছেন হাজতে। সাকা চৌধুরীর মতো যুদ্ধাপরাধী আদালতে এসে পুলিশ-বিচারকসহ প্রায় সবার সঙ্গে অসদাচরণ করছে কিন্তু তারপরও তাকে কোন শাস্তি প্রদান করা হয়নি। সাঈদীসহ অনেক আসামী পবিত্র কোরআন, তসবিত নিয়ে আদালতে প্রবেশ করছেন, যেমন সিফফিনের যুদ্ধে মারোয়ান পবিত্র কোরানের পাতা প্রদর্শন করছেন তরবারীতে ধোকা দেয়ার মানসে। আসামীরা আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে দেখা কুশল বিনিময় করছেন নিয়মিত।




একটি দেশের সংবিধানসম্মতভাবে গঠিত ট্রাইবুনালকে সরাসরি হুমকি দিচ্ছেন আসামী পক্ষের লোকজন, তারপরও তাদের এখনো এ কারণে গ্রেফতার কিংবা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়নি তাদের নামে। আদালত ও বিচার সংশিস্নষ্ট্ সকলে অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছেন বিচারের ক্ষেত্রে। তারপরও যারা বলছেন আমাদের আদালত, বিচার প্রক্রিয়া ও ১৯৭৩ সালের ‘‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন ১৯৭৩’’ আইনটি স্বচ্ছ নয়, তারা দয়া করে বলে দেবেন কি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইবুনাল ফর রুয়ান্ডা, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইবুনাল ফর দ্যা ফরমাল যুগোসস্নাভিয়া, সিয়েরালিওনের বিশেষ কোর্ট (এসসিএসএল), কম্বোডিয়ার বিশেষ চেম্বার কোর্ট ও প্যালেস অব জাস্টিম নামে খ্যাত নুরেমবার্গ ট্রাইবুনাল আমাদের ট্রাইবুনালের চেয়ে কিভাবে স্বচ্ছতর ছিল কিংবা আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন ১৯৭৩ এর কোন্ কোন্ ধারা তাদের দৃষ্টিতে অস্বচ্ছ? বাংলাদেশে গঠিত ট্রাইবুনাল থেকে আসামীরা যে মানবাধিকার পাচ্ছে, তা কি ঐসব আন্তর্জাতিক কোর্টে ছিল? শাহবাগে উদ্দীপ্ত নতুন প্রজন্মসহ সকল দেশপ্রেমিক বাঙালির এখন জানা ও বোঝার বিষয় এটি!





লেখাটি ফেসবুকে দেখতে চাইলে নিচের লিংকে যান প্লিজ





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন