বৃটেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ পৃথিবীর ১ চতুর্থাংশ দেশ ভ্রমণ করেছি আমি। তাদের অনেক প্রশংসিত সামাজিক রীতিকে নিজের দেশ আর সমাজে বাস্তবায়নের ব্যাপারে নানাবিধ প্রবন্ধ রচনা করে পত্রিকা, ব্লগ আর ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার চেষ্টা করি নিয়মিত। জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের সহযোগিতায় বাংলাদেশে “নিশ্চিত হোক শিশু অধিকার, কাটুক সকল অন্ধকার” শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে ‘বিশ্ব শিশু দিবস’ উপলক্ষ্যে বিশ্ব "হাত ধোয়া দিবস" পালিত হয় প্রতি বছর ৬ অক্টোবর। ব্র্যাকের সিফরডি প্রোগ্রামের আওতায়ও “হাত ধুই জীবন বাঁচাই” শ্লোগানে এ কর্মসূচী পালিত হয় নানাস্থানে। কর্মসূচীর মধ্যে থাকে র্যালি ও শিশুদের হাত ধোয়া শেখানো। খুবই ভাল প্রোগ্রাম আমাদের শিশু তথা নিজেদের জন্যে।
কিন্তু অনেক উন্নত দেশেই সুন্দর করে সবাই হাত ধুলেও একটি ব্যাপারে যারপরনাই বিস্মিত আমি, সেটি হচ্ছে ঐসব উন্নত দেশে টয়লেট করার পর কেউই তাদের "পাছা" ধোয়ার প্রয়োজন মনে করেন না, কেবল টিস্যু দিয়েই মুছে কাজ সারেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে পানি ছাড়া না ধুয়ে কেবল মুছলেই কি একটা স্থানের ময়লা সব পরিস্কার হয়? বিশেষ করে এমন একটি "সেনসেটিভ" স্থানের, তা ছাড়া স্টুলের সাথে থাকে নানাবিধ রোগ, জীবাণু, দুষিত পদার্থ। সম্প্রতি চীন তাইওয়ান ভ্রমণকালেও কোন টয়লেটেই পানির কলের ব্যবস্থা দেখিনি কেবল টয়লেট পেপারের রোল ছাড়া। এমনকি সাংহাই, তাইপে, বেজিং আধুনিক বিমানবন্দরে টয়লেটে কোন পানির কলই নেই। যদিও অন্যত্র নানাবিধ গরম ঠান্ডা পানির হরেক রকম ব্যবস্থা।
এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হচ্ছে ভারতীয় উপমহাদেশের দেশগুলো। এখানের সব দেশেই জাতি ধর্ম নির্বেশেষে প্রত্যেকেই তাদের হাত পা না ধুলেও অন্তত "পাছাটি" ঠিকই ধুয়ে থাকেন প্রচুর পানি খরচ করে। সুতরাং উন্নত দেশগুলো যেখানে আমাদের শিশুদের শেখাচ্ছে "হাত ধোয়া দিবস"। আমাদের সেখানে পশ্চিমা ও প্রাচ্যের ঐসব দেশের সব নাগরিককে শেখাতে হবে "পাছা ধোয়া কার্যক্রম", যাতে তারা পালন করে "পাছা ধোয়া দিবস"। কারণ বিশ্বস্বাস্থ্য সচেতন নাগরিক মানে বৈশ্বিক নাগরিক। কিন্তু প্রোগ্রামটি শুরু করবে কারা, কোত্থেকে, কখন?
লেখাটি ফেসবুকে দেখতে চাইলে নিচের লিংকে যান প্লিজ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন