বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ধর্ষণ : ধর্ষক, ধর্ষিতা, ধর্ম আর সামাজিক দায় কার কতটুকু? প্রবন্ধ # ১৯


মূল প্রবন্ধের আগে লেখকের নিজস্ব চেতনা ও আত্মরক্ষামূলক বক্তব্য :

[এ প্রবন্ধটি মূলত একটি সমাজ চিন্তন বিষয়ক বিতর্কমূলক প্রবন্ধ। কোনক্রমেই লেখক ধর্ষণকে সমর্থন করেনা বা ধর্ষকের পক্ষে নয়। কেবল এ চিন্তনে প্রবন্ধটি লেখা যে, ধর্ষণ নামক অপরাধটি যদি সমাজে আর ১০-টি সাধারণ অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো, তাতে ধর্ষিতা বর্তমানের চেয়ে সামাজিক মর্যাদা নিয়ে সমাজে বাঁচতে পারতো কিনা? তাতে সমাজে ধর্ষণ বেড়ে যেত কিনা? কিংবা এর প্রতিফল সমাজে কি হতো? বিষয়টি নিয়ে নতুন চিন্তনের প্রচেষ্টায় মূলত এ প্রবন্ধ। এ বিষয়ে লেখককে ভুল না বোঝার জন্য ফেসবুক বন্ধুদের অনুরোধ জানিয়ে মূল লেখাটি পড়ার অনুরোধ জানাই]

মূল প্রবন্ধ :
বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই ধর্ষণকে খুনের মত একটি “মারাত্মক বড় অপরাধ” হিসেবে গণ্য করা হয়। এমনকি কোন কোন দেশে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে ‘মৃত্যুদণ্ড’ বা ‘আজীবন কারাবাস’ হিসেবে ‘পেনাল কাডে’ অন্তর্ভু্ক্ত করা হয়েছে। সৌদি আরবসহ অনেক মুসলিম দেশে ধর্ষণকে “শিরোচ্ছেদ” যোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে ধর্মীয় ও সামাজিক কারণে, পাথর মেরে হত্যার শাস্তিও আছে শরিয়ায়। শাস্তি ছাড়াও ধর্ষককে সামাজিকভাবে খুবই হেয় দৃষ্টিতে দেখা হয় বাংলাদেশসহ অনেকে দেশেই। অনেকেই ধর্ষকের কাছে তার মেয়ে বা কন্যাকে বিয়ে দিতে চাননা, আর ধর্ষককে ‘স্পাউস’ বা সঙ্গী হিসেবে পছ্ন্দ সম্ভবত খোদ ধর্ষিতাও করবে না। আর ধর্ষিতা? তার কথা না হয় পরেই বলি।

ধর্ষণ শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয় পৃথিবীর অনেক দেশেরই সমস্যা। বিশ্বে প্রতি ৬ মিনিটে একজন নারী ধর্ষিতা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ৫ জন পূর্ণ বয়স্ক নারীর একজন এবং প্রতি ৬ মিনিটে এক নারী ধর্ষিত হয়। প্রতিবছর জ্ঞাত ধর্ষণের সংখ্যা ১,৩০,০০০। মেক্সিকোতে প্রতি ৫-১৫ মিনিটে একজন নারী ধর্ষিত হয়। নৌকায় ভাসমান ভিয়েতনামী উদ্বাস্তু নারীদের ৩৯ ভাগ সাগরে অপহৃত ও ধর্ষিত হয়্। কলম্বিয়ায় প্রতি ১০ জন নারীর একজন ধর্ষিত হয়্, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতি ১.৫ মিনিটে একজন নারী ধর্ষিত হয়। প্রতিবছর ধর্ষণের শিকার হয় প্রায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার নারী। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ বিভিন্ন বয়েসী নারী ধর্ষিত হয়। বলকান যুদ্ধের সময় বসনিয়া-হার্জেগাভিনয় ২০ হাজারেরও বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হয়। রুয়াণ্ডায় ১৯৯৪ এপ্রিল থেকে ১৯৯৫ এপ্রিল পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার নারী ও মেয়ের সংখ্যা ১৫ হাজার ৭ শ। সাম্প্রতিক দিল্লির ধর্ষণের ঘটনা আমরা কমবেশি জানি সবাই।

দেখা যাক এ বিষয়ে উইকি কি বলছে, ‘ধর্ষণ একপ্রকার যৌন অত্যাচার। সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা অনুমতি ব্যতিরেকে যৌনাঙ্গের মিলন ঘটিয়ে বা না ঘটিয়ে যৌন সংগমে লিপ্ত হওয়াকে ধর্ষণ বলা হয়। ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশ, বিচার ও অভিযুক্তের শাস্তিপ্রদানের হার বিভিন্ন বিচার ব্যবস্থায় বিভিন্ন প্রকার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিচার পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেব অনুসারে সেদেশের ধর্ষিতদের মধ্যে ৯১% মহিলা ও ৯% পুরুষ এবং ৯৯% ক্ষেত্রেই অপরাধী পুরুষ। মহিলাদের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, যাঁরা তাঁদের উপর যৌন অত্যাচারের কথা স্বীকার করেন, তাঁদের মাত্র দুই শতাংশ বলেন যে, তাঁরা কোনো অপরিচিত ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষিত হয়েছেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে কারাগারে পুরুষ কর্তৃক পুরুষের ধর্ষণ একটি গুরুতর সমস্যা। একাধিক গবেষণা থেকে জানা যায়, পুরুষ-পুরুষ বন্দী ধর্ষণ ধর্ষণের সর্বাধিক পরিচিত একটি ধরন। ধর্ষণ ও যৌন ক্রীতদাসত্ব বহুপরিচিত ও বহু-অনুশীলিত অভ্যাস হলেও এটি মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ হিসেবেই গণ্য করা হয়’।

মানুষ কেন ধর্ষণ করে? এ প্রশ্ন অনন্ত আর অসীম। তবে সমাজবিজ্ঞানিরা বলেন, প্রতিটি মানুষের মাঝেই শারীরিক চাহিদার তাড়ণা আছে। কেহ কেহ এই চাহিদার তরিৎ বাস্তবায়ন করতে গিয়েই ধর্ষণের আশ্রয় নেয়, যদি না ঐ তাড়ণা পুরণের কোন বৈধ পন্থা তার হাতে না থাকে। তা ছাড়া প্রতিশোধ, আক্রোশ, অক্ষমতা, নেশাসক্ততা প্রভৃতি কারণেও মানুষ ধর্ষণ করতে পারে। তবে বিষয়টি গভীর বিশ্লেষণ ও জৈবিক বিচারের দাবি রাখে। যে পুরুষের শরীরে খুব বেশি হরমোন ক্ষরণ হয়, যাকে অতি সক্রিয় বলা হয়, সে পুরুষের যৌন ইচ্ছা অতি তীব্র হতে পারে। সুপ্রারোনাল গ্র্যাণ্ডের কর্টেকস থেকে অতি মাত্রায় হরমোন নিঃসৃত যদি বেশি হয় বা পিটুইটারি গ্ল্যাণ্ড যদি ফেল করে, তাহলেও পুরুষের যৌনক্ষুধা অস্বাভাবিক বা মারাত্মক হতে পারে। আর এই ধরণের পুরুষের যদি শিক্ষা বা সংস্কৃতির ভিতটা জোরালো না থাকে, অর্থাৎ নৈতিকতার ভিত যদি পুরুষটির শক্ত না হয়, তাহলে মুহূর্তের উত্তেজনায় সে ধর্ষণকারি হয়ে উঠতে পারে।'

সমাজ ও অপরাধ বিজ্ঞানী ড. উপেন্দ্রনাথের বক্তব্য হচ্ছে, 'বিশেষ সময়ে, বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে অনেকেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধর্ষণ করে ফেলেন। অথচ সুস্থ মাথায় ভাবলে এটা একটা অস্বাভাবিক কাজ। এসব ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক যৌন ক্ষুধা, সুযোগ, পরিস্থিতি সবই কারণ হতে পারে।'

তাসলিমা নাসরিন সম্প্রতি তার ব্লগে মন্তব্য বলছেন, হরমোনের দোষ নয়, ছেলেরা ধর্ষণ করে পার পাবে বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে এটা কী রকম?। পুরুষের দেহে এমন কোনও হরমোনও নিঃসরণ হয় না যে, মেয়েদের দেখলেই ঝাপিয়ে পড়ার ইচ্ছা জাগবে তার। হরমোনের দোষ দিয়ে লাভ নেই, এটা নিশ্চিত ভাবে একটা সামাজিক সমস্যা। সানি লিওনের দৃষ্টিতে ‘ধর্ষণ মোটেও অপরাধ নয়, বরং এটা একটা সারপ্রাইজড সেক্স’।

হুমায়ুন আজাদ তার 'দ্বিতীয় লিঙ্গ' বইতে ধর্ষণ সম্পর্কে বলেছেন, 'ধর্ষণ হচ্ছে পুরুষ কর্তৃক বলপ্রয়োগে নারী সঙ্গম। বলপ্রয়োগে সঙ্গম হচ্ছে সেই সঙ্গম, যাতে নারীর স্পষ্ট বা প্রচ্ছন্ন সম্মতি নেই। ধর্ষণ পুরুষের এমন আচরণ, যা নারীকে তার সঙ্গী নির্বাচনের অধিকার দেয় না।ধর্ষণ হচ্ছে নারীর প্রতি চরম সহিংসতা প্রদর্শনের নামান্তর। এই সহিংসতা আঘাত হানে তার দেহে, তার স্বাতন্ত্র্যতায়, তার সত্তায়, তার আত্ম পরিচিতিতে, নিরাপত্তাজ্ঞানে ও মর্যাদাবোধে। আইনের নির্ধারিত সংজ্ঞায় ' পেনিট্রেশন বা পার্টলি পেনিট্রেশনকে রেপ বা ধর্ষণ বলে’।

এদেশে সাধারণ অর্থে ধর্ষণ হচ্ছে, পুরুষ কর্তৃক (নারীও হতে পারে) ইচ্ছের বিরুদ্ধে কোন নারীর সাথে যৌনতা, অন্তত বাংলাদেশের ধর্ষণ বলতে এটাই বোঝায়। কি হয় ধর্ষণ করলে? নারী কি তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌনতার কারণে তার জীবনীশক্তি, যৌনশক্তি, শিক্ষাশক্তি, কর্মশক্তি, মেধাশক্তি, স্বাস্থ্যশক্তি, সৌন্দর্যশক্তি, সন্তানধারণ-শক্তি হারায়? জবাব হচ্ছে ‘না’। এর কিছুই ধর্ষণের কারণে হারায় না নারী।

তবে হারায় কি? কি ক্ষতি হয় তার? এটা কি নারীকে কেউ যদি তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে একটা গালি দেয়, ধাক্কা দেয়, ছিড়ে ফেলে শরীরের একটা অংশ ব্লেড বা চাকু দিয়ে কিংবা দেয় চড়-থাপ্পর তার চেয়ে বেশি কিছু? জবাব ‘না’, প্রকৃত অর্থে ধর্ষণে এর চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়না নারীর। তবে গালি, ধাক্কা, চড়-থাপ্পর, ছিড়ে দেয়ার শাস্তি ১/২ মাসের কারাবাস হলেও, ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কেন? প্রশ্নটা এখানেই এসে ঘুরপাক খেতে থাকে একটা অসীম ‘দুষ্ট চক্রের’ মত।

আসলে ধর্ষণে ধর্ষিতার শারিরিক খুব বড় কোন ক্ষতি হয়না ধর্ষক কর্তৃক, কেবল ঐ টুকু ক্ষতি হয় যা উপর্যুক্ত ১/২ মাসের সাধারণ অপরাধতূল্য [ধর্ষণের সময় আঘাত বা হত্যা অন্য অপরাধ, এটি ধর্ষণ ছাড়াও হতে পারে, সুতরাং একে ধর্ষণে একাকার করা ঠিক হবে না]। বরং এ ক্ষেত্রে ধর্ষিতা ‘দায়ে পড়ে সম্মতি’ দিলেও বরং রেজাল্ট কিছুটা ‘সুখকর’ হতেও পারে অভিমত যৌন বিজ্ঞানির। কিন্তু ঐ যে মানসিক বিষয়টা জড়িয়ে আছে, তারচেয়েও ভয়াবহতার ভয় ধর্ষিতার ‘সমাজ আর ধর্মকে’। তাই ধরা যাকে সে ২০% ধর্ষিতা প্রাপ্ত হয় ধর্ষক কর্তৃক, বাকি ৮০% ধর্ষণ করে মূলত "ধর্ম আর সমাজ" তাকে মূলত ধর্ষণের পর অব্যাহতভাবে! দেখা যাক বিষয়টা কিভাবে?

যদি সমাজে ধর্ষণ অপরাধকেও অন্য ৫-টা সাধারণ সামাজিক অপরাধ তথা ওড়না টানদেয়া, চিমটি-কাটা, হাতে ব্লেড মেরে রক্ত ঝরানো, গালিদেয়া, ধাক্কা, চড়-থাপ্পর দেয়ার মত অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতো এবং ধর্ষিতাকে যদি ধর্ষণের কারণে বাঁকা চোখে দেখা না হতো, তার বিয়ে আটকে না যেত, ঠিক হওয়া বিয়ে ভেঙে না যেত, স্বামীর সংসার থেকে বিদায় নিতে না হতো, সমাজ, অফিস বা পরিবারে লজ্জা না পেতে হতো, চাকুরি পেতে সমস্যার সম্মুখীন না হতে হতো, রাস্তায় লজ্জায় পড়তে না হতো, তবে কি ধর্ষককে এভাবে ‘কঠিন শাস্তির’ মুখোমুখি হতে হতো? ধরা যাক, ধর্ষণ সমাজে ওড়না টানদেয়া, চিমটিকাটা, ঘুষি দেয়া, গালিদেয়া, ধাক্কা, চড়-থাপ্পর দেয়ার মতই নারীর প্রতি একটি সাধারণ অপরাধ এবং এজন্যে নারীকে ‘চিমটি-কাটার’ মতই সবাই সব কিছু ভুলে গিয়ে তার দৈনন্দিন সব কাজই করে যাচ্ছে, কেউই মনে রাখছে না যে, কোন একদিন এক ছেলে এ মেয়েটির অসম্মতিতে তার গালে বা হাতে একটি চিমটি কেটেছিল, কিংবা তার একটা আঙুল ভেঙে দিয়েছিল। এ জন্য মেয়েটির বিয়েও আটকে যায়নি, তাহলে ধর্ষণ বাংলাদেশে কি এ জাতীয় একটা সাধারণ অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো না?

কিন্তু সমাজ, ধর্ম আর রাষ্ট্র কর্তৃক ধর্ষককে এই যে এত বড় শাস্তি প্রদান তার ন্যায্যতা আসলে কতুটুকু? সাধারণ দৃষ্টিতে বিচার করলে ৯৯% নারী-পুরুষই বলবেন যে, ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র “শাস্তি” হওয়া উচিত। কারণ ধর্ষিতা মেয়েটির জীবন শেষ করেছে কথিত ‘ধর্ষক’, কাজেই এটাই ধর্ষকের প্রাপ্য।

কথাটা কি পুরো সত্যি? আসলেই কি ধর্ষক ধর্ষিতার জীবন পুরো শেষ করে দেয়? ধর্ষিতা কি ধর্ষণের পর আর বাঁচতে পারেনা পৃথিবীতে তর মন আর শরীরের স্বাভাবিকতা নিয়ে? তাকে কি মানসিক ও শারিরিক অযোগ্য করে তোলে ধর্ষক? কথাটা তাহলে কতটুকু সত্যি? দেখা যাক, গভীরে প্রবেশ করে কি করে ধর্ষক আর ধর্ষিতা!

তো "ধর্ষিতা" ও "ধর্ষক"কে এতো বড় অপরাধি কে বানিয়েছে? বানিয়েছে সমাজ আর তার ঋণাত্মক চিন্তাধারা ও ধর্ম। কারো আঘাতে কোন মেয়ের ১টা আঙ্গুল, হাত, দাঁত বা চোখ হারালে, এমনকি মেয়েটার অনেক বড় শারিরীক ক্ষতি হলেও, এ ক্ষতির কারণে মেয়েটির বিয়েসহ অনেক কিছুই আটকে থাকেনা, বিয়ের সময় প্রশ্ন তোলা হয়না যে, ৩ বছর আগে একটা ছেলে মেয়েটির হাতে একটা আঘাত করে তার আঙুল ভেঙে দিয়েছিল এ কারণে তার বিয়ে বাতিল কিন্তু ধর্ষিতা হলে তার ঐরূপ কোন ক্ষতি না হলেও এবং বলা যায় ২/১টি ব্যতিক্রম ছাড়া ধর্ষিতা জৈবিকতায় ১০০% ধর্ষণ পূর্বকালের মতই পুরো সক্ষম থাকলেও, সমাজ তাকে নানা ঋণাত্মক অভিধায় জৈবিকতায় ‘অযোগ্যে’ করে তোলে। যে কারণে আত্মহত্যার পথও ধর্ষিতা বেছে নিতে বাধ্য হয় ঐ সামাজিক ‘অযোগ্যতার’ কারণে । এ আত্মহত্যার জন্য ধর্ষক কতটা দায়ি? যদি দায়ি হয়, তবে তো ওড়না-টানা বা চিমটি দেয়ার কারণেও মেয়েটা আত্মহত্যা করতো, ঐ অপরাধেও শাস্তি হতো তার মৃত্যুদণ্ড!

সুতরাং বলা যায়, ধর্ষণের কারণে ধর্ষকের দায় ২০% আর সমাজের দায় ৮০% (অনুমানভিত্তিক এটা সমাজভেদে কমবেশি হতে পারে)। অর্থাৎ সমাজ আর তার প্রচলিত তথাকথিত আইন-কানুনই ধর্ষিতাকে আত্মহননে বাধ্য করছে, তাকে বাঁচতে নিরুৎসাহিত করছে, তার চলার পথ বন্ধুর আর রুদ্ধ করছে। এবং সমাজের এ অপরাধটা সে ঢাকার জন্য পুরো দায়টা ধর্ষকের উপর চাপিয়ে তাকে তার প্রাপ্য ২০% + সমাজের প্রাপ্য ৮০% = ১০০% শাস্তি তথা মৃত্যুদণ্ড দিয়ে সমাজ নিজেকে ধোয়া তুলসিপাতা হিসেবে জাহির করছে ও হোয়াইট কলারে সমাজ ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রবল দাপটে। আর ধর্ষককে ‘ধর্ষণ’ অপরাধে “ফাঁসি” লাগিয়ে, সমাজ আর ধর্ম নামক প্রবল প্রতাপশালী “সন্ত্রাসী” প্রতিনিয়ত তার “ফতোয়া”-র চাবুক চালিয়ে যাচ্ছে ধর্ষক প্লাস ধর্ষিতার উপর। আর তাকে ‘বাহবা’ দিচ্ছি আমরা লক্ষ-কোটি নীরিহ বোকা দর্শক বুঝে কিংবা না বুঝে! বিষয়টা কি একটু চিন্তা করা যেতে পারে?

(তথ্যমূত্র : এ লেখায় http://bn.wikipedia.org/wiki ও নেট থেকে তথ্য-উপাত্ত নেয়া হয়েছে)

 
লেখাটি ফেসবুকে দেখতে চাইলে নিচের লিংকে যান প্লিজ
 






কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন