বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

আত্মহত্যা না জীবন? কাকে সঙ্গ দেয়া সুখকর? প্রবন্ধ # ২২


অনেকেই সাধারণ জীবনদ্রোহে আত্মহত্যা করেন। কোন মানুষ কেবল তখনই আত্মহত্যা করতে উদ্যোত হতে পারে, যখন তার নিরাশা অত্যন্ত চরমে পৌঁছে, যখন আশার কোনো আলো তার হৃদয়ে অনুভূত হয়না। পরীক্ষায় ফেল, ঈদের জামা বা প্রেমে প্রত্যাখ্যান কিংবা মা বাবার বকাঝকায় অনেকে আত্মহত্যা করে ফেলেন। 

ডেভিড হিউম-এর মৃত্যুর পর আত্মহত্যা বিষয়ে তাঁর একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। এই প্রবন্ধে হিউম আত্মহত্যার কর্মকে, ঈশ্বরকে অপমান করার একটি প্রচেষ্টা বলে অভিমত দিয়েছেন। আত্মহত্যা হলো ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। হিউম-এর মতে, আত্মহত্যাকে পরিবার ও সমাজ পরিত্যাগ করে সন্ন্যাসব্রত পালনের সাথে তুলনা করা যেতে পারে, যা অনৈতিক নয়। কিন্তু আত্মহত্যাকারীর নির্ভরশীলরা এতে দূর্বল হয়ে পড়ে। যদিও হিউম স্বীকার করেছেন যে, কখনো কখনো আত্মহত্যা-স্পৃহা জাগতে পারে, তবে সম্ভবপর অন্য সকল উপায় বিবেচনা করার আগে আত্মহত্যার চিন্তা বিবেচনা করা হাস্যকর।

কিছু চিন্তাবিদের আত্মহত্যার প্রতি সমর্থনপুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গী ছিল। গোথ এবং স্কোপেনহাওয়ার আত্মহত্যাকে জীবনের সবচেয়ে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখেছেন। স্কোপেন হাওয়ার এর মতে - "আত্মহত্যাকে তারা ভীরুতাপূর্ণ কাজ বলে জ্ঞান করে ... তারা বলে, আত্মহত্যা ভুল কাজ; অথচ পৃথিবীতে মানুষের নিজের জীবনই তার জন্য সবচেয়ে অনাক্রম্য ব্যাপার।" 

স্কোপেনহাওয়ার আত্মহত্যাকে অনৈতিক বলে মনে করেন না, আত্মহত্যাকে একজন ব্যক্তির অধিকার বলে মনে করেন। আত্মহত্যার সমর্থনে চমৎকার একটি রূপক ব্যবহার করেছেন স্কোপেনহাওয়ার। আত্মহত্যার মাধ্যমে মৃত্যুকে দুঃস্বপ্ন দেখতে থাকা একজন ঘুমন্ত মানুষের ঘুম ভেঙ্গে বাস্তবে ফেরার সাথে তুলনা করেছেন স্কোপেনহাওয়ার।

স্বাধীনতাবাদ দাবী করে যে, মানুষের জীবন শুধু তারই, দ্বিতীয় কোন ব্যক্তির কোন অধিকার নেই কোন প্রকার আদর্শ তার উপর আরোপ করার। বরং সবধরনের সিদ্ধন্ত শুধুমাত্র ব্যক্তির উপরই নির্ভরশীল এবং নিজের জন্য নেয়া ব্যক্তির যেকোন সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করা উচিত।

দার্শনিক ও মনঃস্তত্ববিদ থমাস জাস্জ আরেক প্রস্থ এগিয়ে বলছেন যে, আত্মহত্যার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর একটি। যদি স্বাধীনতার মানে হয় নিজস্বতার মালিকানা, নিজের জীবন ও শরীরের উপর মালিকানা, তবে একজন মানুষের নিজের জীবন ত্যাগ করার অধিকার তার সবচেয়ে বড় মৌলিক অধিকারগুলোর একটি। যদি অন্য কেউ একজন মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য বাধ্য করে, তবে মানুষটি তার নিজের জীবনের মালিক নয়, তার জীবন অন্যের কাছে বন্দী।

একজন ব্যক্তিকে জীবন ও আত্মহত্যার মধ্যে বেছে নিতে দেয়ার স্বপক্ষে কিছু যুক্তি আছে। আত্মহত্যাকে ব্যক্তির ইচ্ছার উপর উপর ছেড়ে দেয়া উচিত বলে যারা যুক্তি দেখান, তাদের মতে আত্মহত্যা সবসময় অযৌক্তিক নয়, কখনো কখনো বাস্তব সমস্যার সঠিক সমাধান। যেখানে বিকল্প সকল উপায় আত্মহত্যার চেয়ে খারাপ বলে মনে হবে, তখন আত্মহত্যা একটি বৈধ কাজ।

আমার এক ফেসবুক বন্ধু আত্মহত্যা করতে চাইছে কিন্তু তার বোঝা দরকার নিজেকে নিধন করা সহজতর, কিন্তু ২য় বার কি সে তাকে পৃথিবীতে আর সৃষ্টি করতে পারবে? যদি নাই পারে তবে সাময়িক কষ্ট আর আবেগে আত্মহত্যার মত এমন ঋণাত্মক সিদ্ধান্ত কেন? কেন নয় জীবনকে সুন্দর সাজানোর চেষ্টা করা নানাবিধ পঙ্কিলতার মাঝেও?



লেখাটি ফেসবুকে দেখতে চাইলে নিচের লিংকে যান প্লিজ


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন